ব্লগস্পট নাকি ওয়ার্ডপ্রেস! ব্লগের জন্য কোনটি ভালো?

ব্লগ শব্দটির আবির্ভাব ইংরেজি Weblog থেকে যার বাংলা প্রতিশব্দ দাঁড়ায় অনলাইন ভিত্তিক ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা বা খাতা। সাধারণত ব্যক্তিগত প্রতিভা অনলাইনে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যে ব্লগের আবির্ভাব। আপনি যে বিষয়ে পারদর্শি সে বিষয়ের ওপর-ই ব্লগ পরিচালনা করতে পারেন।

আপনি অনলাইনে দুই উপায়ে নিজের এক বা একাধিক ব্লগ খুলতে ও পরিচালনা করতে পারেন। এক, নিজে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে। দুই, বিভিন্ন ফ্রি ব্লগ প্লাটফর্ম সাইটে রেজিস্ট্রেশন করে। সাধারণত ফ্রি ব্লগ প্লাটফর্মগুলো আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সাব-ডোমেইন ও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ওয়েব স্পেস দিবে যেখানে আপনি আপনার কনটেন্ট সাজিয়ে রাখতে পারবেন। কিছু কিছু প্লাটফর্ম আপনাকে সাব-ডোমেইনের পরিবর্তে নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহারের সুযোগ দেয়। আজ আমরা মূলত ব্লগ প্লাটফর্ম হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগস্পট নিয়ে আলোচনা করবো। তবে আলোচনায় যাওয়ার আগে বলে নিই এখানে তুলে ধরা মতামত সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত। আপনারা আপনাদের মতামত মন্তব্য আকারে তুলে ধরতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস


ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে বর্তমানে ব্যবহৃত সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লগ পাবলিশিং প্লাটফর্ম। এটি একটি শক্তিশালী কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএমএস)। যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যায়। এটি মূলত পিএইচপি ও মাইএসকিউএল দ্বারা তৈরি যা কোন প্রকার প্রোগ্রামিং জ্ঞান ছাড়াই পরিচালনা করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেসের দু’টি ভার্সন রয়েছে। ওয়ার্ডপ্রেস.কম ও ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ। ওয়ার্ডপ্রেস.কম হচ্ছে সেলফ হোস্টেড সার্ভিস যা আপনি ওয়ার্ডপ্রেস.কম সাইটে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনি পাবেন একটি সাব-ডোমেইন ও এক জিবি স্টোরেজ। যেখানে আপনি আপনার কনটেন্ট রাখতে পারবেন। তবে এখানে সম্পূর্ণ ক্ষমতা আপনার হাতে থাকবে না। আর ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেসের ডাউনলোড ভার্সন যা আপনি আপনার নিজস্ব হোস্টিং-এ হোস্ট করে নিজের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবেন। যার সম্পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে আপনার হাতে।

ওয়ার্ডপ্রেস এসইও ফ্রেন্ডলি সিএমএস। ওয়ার্ডপ্রেস এখন শুধু ব্লগিং প্লাটফর্মেই সীমাবদ্ধ নেই। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস নিজ ইচ্ছেমতো কাস্টমাইজ করে তৈরি করতে পারবেন আপনার পছন্দ মতো প্রায় সব রকম সাইট। এর ব্যবহার সহজ, ব্যাকএন্ড ও ফ্রন্টএন্ড বেশ পরিস্কার-পরিছন্ন ও বেশ গোছানো। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই ওয়ার্ডপ্রেস দিন দিন জনপ্রিয় থেকে জনপ্রিয়তর হচ্ছে।

ওয়ার্ডপ্রেস.কম ভার্সনে আপনি নিজের ডোমেইন যোগ করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে হোস্টিং বাবদ খরচ বহন করতে হবে।

ব্লগস্পট


ব্লগস্পট হচ্ছে অনলাইন জায়ান্ট গুগল পরিচালিত একটি ফ্রি ব্লগিং প্লাটফর্ম। যা একটি জিমেইলের অধীনে ব্যবহার করতে পারবেন। গুগলের সকল সার্ভিস যেহেতু জিমেইলে ইন্টিগ্রেট অবস্থায় থাকে তাই গুগলের ফ্রি স্টোরেজ ১৫ জিবি আপনি হোস্টিং হিসেবে পাচ্ছেন। তবে প্রকৃত অর্থে বলতে গেলে আপনি হোস্টিং পাচ্ছেন আনলিমিটেড। ব্লগিং এর ক্ষেত্রে আমরা মূলত টেক্স, ইমেজ আর ভিডিও এই তিনটি কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করি। সেক্ষেত্রে গুগল টেক্স এর জন্য কোন স্পেস রিডিউস করে না। আর আপনার ইমেজ যদি ২০৪৮x২০৪৮ পিক্সেলের কম হয় সে ক্ষেত্রেও কোন স্পেস রিডিউস হবে না। ভিডিও আপনি ইউটিউবে আপলোড করে এম্বেড করতে পারেন।

ব্লগস্পট আপনাকে দিচ্ছে কোন রকম শর্ত ছাড়াই নিজস্ব ডোমেইন ব্যবহার করার সুযোগ। তবে ব্লগস্পটের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো এটি আপনি ডাউনলোড করে নিজস্ব হোস্টিং-এ ব্যবহার করতে পারবেন না।

ব্লগস্পটও এক ধরনের সিএমএস। তবে একে সয়ং সম্পূর্ণ সিএমএস বলাও ঠিক হবে না। আপনি একে নিজ ইচ্ছেমতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন না। তবে অনুমোদিত কোডিংয়ের মাধ্যমে একে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন। ছোটখাটো নিউজপেপার ও ই-কমার্স সাইটও পরিচালনা করা যায়।

ব্লগস্পট এস.ই.ও এর জন্য খুবই উপযোগী। বিশেষ করে ব্লগস্পটে ইমেইজ খুব ভালো অপটিমাইজ হয়। আপনার সাইটের ভিজিটর লোড যতই হোক, ব্লগস্পট সাইট কোন রকম অসুবিধা ছাড়াই অনলাইন থাকবে। মাঝে মাঝে দেখা যায় গুগল ব্লগস্পট সাইট টার্মিনেট করে দেয়। তবে আপনি যদি ব্লগস্পটের টার্মস এন্ড কন্ডিশন ভঙ্গ না করেন সেক্ষেত্রে আপনার কোন সমস্যাই হবে না।

আমার মন্তব্য


আপনি যদি নিজে ডোমেইন ও হোস্টিং নিয়ে ব্লগ করতে ইচ্ছুক হন, সেক্ষেত্রে আপনি নিঃসন্দেহে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে পারেন। আর ব্লগস্পট প্রকৃতপক্ষে হোস্ট করা সম্ভবও না। আর যদি আপনি মনে করেন, শুধু একটি ডোমেইন নিয়ে বা ডোমেইন ছাড়াই ব্লগ পরিচালনা করবেন, সেক্ষেত্রে ব্লগস্পটকে আমি সর্বপ্রথম এগিয়ে রাখবো।

মূলত আপনি আপনার ডোমেইনকে ব্লগস্পটে যুক্ত করলে যেমন হোস্টিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। তেমনি আপনার ব্লগের সিকিউরিটি নিয়েও চিন্তা করতে হবে না।